জাপান সফর শেষে ঢাকায় ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিলম্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক | চাতক টিভি
চার দিনের সরকারি সফর শেষে জাপান থেকে দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তবে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকাগামী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তাঁর ফিরতি যাত্রায় বিলম্ব হয়েছে। এ ঘটনায় উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রকৌশলীরা ত্রুটি নিরসনের কাজ করছেন বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটটি জাপানের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৭ মিনিটে নারিতা বিমানবন্দর থেকে ছাড়ার কথা ছিল। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়েছিল। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তিত হয়েছে। সর্বশেষ নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে সংশোধিত উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় নিশ্চিত করা যায়নি।

২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যান প্রধানমন্ত্রী
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া ছিল সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় গুরুত্ব
সফরের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মধ্যে ছিল বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো। দুই দেশের আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, পরিবহন অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ও স্থান পায়।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সফরকালে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি মোট ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের দুটি ঋণ প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)। বেসরকারি খাতেও দুই দেশের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তথ্য জানানো হয়েছে।

জাপানের শিল্প ও প্রযুক্তি খাত পরিদর্শন
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি দেশটির জ্বালানি ও লজিস্টিকস অবকাঠামো সম্পর্কে ধারণা নেন এবং নাগোয়া সফরে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোটোমাচি কারখানা ও শিল্প-প্রযুক্তি জাদুঘর পরিদর্শন করেন।
এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস
বাংলাদেশ ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্ক ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা রয়েছে।
ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানের সহায়তা দুই দেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বর্তমান সফরের আলোচনাও সেই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ।

সফরের পরবর্তী গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের ফলাফল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলো কতটা কার্যকর হয়, নতুন সহযোগিতা চুক্তির অগ্রগতি কীভাবে এগোয় এবং বাংলাদেশের কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি খাতে কী ধরনের সুফল আসে—সেদিকেই থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের নজর।
অন্যদিকে, ফিরতি ফ্লাইটের যান্ত্রিক ত্রুটি নিরসন এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার পরই প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার সংশোধিত সময় জানা যাবে। এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ।


