সাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন করতে ভোগান্তি, সেবা পেতে ঘুরতে হচ্ছে একাধিক দপ্তরে

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধনসহ নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও জন্মনিবন্ধন করতে জনপ্রতিনিধিদের স্বাক্ষর সংগ্রহ, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং একাধিক দপ্তরে যাতায়াত করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিশেষ করে সরকারি ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহের সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন অনেকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের নতুন সচিব শামীমের দায়িত্ব গ্রহণের পর নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন তাঁরা। জন্মনিবন্ধনের আবেদন থেকে শুরু করে সনদ সংগ্রহ পর্যন্ত একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে একাধিকবার যাতায়াত
একজন ভুক্তভোগী জানান, সাতগ্রাম ইউনিয়নে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও সন্তানের জন্মনিবন্ধন চেয়েছেন। কিন্তু সন্তানের জন্মনিবন্ধন না থাকায় তিনি সেটি তৈরি করতে ইউনিয়ন পরিষদে যান। এ সময় নিজের জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত কাজেও তাঁকে জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, অনলাইনে আবেদনের পর তাঁকে স্বাক্ষরের জন্য সংশ্লিষ্ট মেম্বারের কাছে যেতে বলা হয়। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে ওই মেম্বারকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে পাওয়া যাচ্ছে না বলে তাঁর অভিযোগ। পরে ইউনিয়ন পরিষদে ফিরে গেলে তাঁকে একজন নারী সদস্যের কাছে স্বাক্ষর নিতে পাঠানো হয়।
আবেদনপত্রে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে জমা দেওয়ার পর জন্মনিবন্ধন প্রিন্ট হতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে বলে জানানো হয়। অথচ সরকারি ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনে তাঁর জন্মনিবন্ধন জরুরি বলে জানান ওই ভুক্তভোগী।
সনদ হাতে পেয়েও শেষ হচ্ছে না ভোগান্তি
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দীর্ঘ অপেক্ষার পর জন্মনিবন্ধনের মূল কপি হাতে পাওয়ার পর তাঁকে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও প্রশাসকের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে বলা হয়। সচিবের স্বাক্ষর নেওয়ার পর প্রশাসকের স্বাক্ষরের জন্য তাঁকে আবার আড়াইহাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতাউর রহমানের কাছে যেতে বলা হয় বলে তিনি জানান।
সেখানে স্বাক্ষর সংগ্রহের পর আবার ইউনিয়ন পরিষদে ফিরে এসে সচিব ও প্রশাসকের সিল নিতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এভাবে একটি জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করতে বারবার ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পর্যায়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময়, যাতায়াত খরচ এবং কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমি এই ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা। আমার জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও জন্মনিবন্ধনের জন্য কেন বারবার মেম্বার ও বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে যেতে হবে? প্রয়োজনীয় সেবা পেতে এতগুলো ধাপ পার হতে হলে সাধারণ মানুষ কীভাবে দ্রুত সেবা পাবে?”

জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন জনপ্রতিনিধি অনুপস্থিত থাকায় বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর ও প্রত্যয়ন সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁদের অনেক সময় সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ছাড়া তৎকালীন চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাহমুদের ভূমিকা এবং ইউনিয়ন পরিষদের নথিপত্র ও অর্থের বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাই করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহে বাধার আশঙ্কা
সরকারের ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলাকালে পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা অনেকের জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে। কিন্তু জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়লে প্রকল্পের তথ্য প্রদানেও সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে যেসব পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই এবং জন্মনিবন্ধন প্রয়োজন, তাঁদের জন্য দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ায় সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আওতা বাড়ানোর সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে সেবাপ্রাপ্তির জটিলতা দূর করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দ্রুত সমাধান চান স্থানীয় বাসিন্দারা
সাতগ্রাম ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় বাসিন্দারা জন্মনিবন্ধনসহ সব ধরনের নাগরিক সেবা সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাঁদের দাবি, জন্মনিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, স্বাক্ষর, সিল এবং সনদ প্রদানের নির্ধারিত সময়সীমা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। পাশাপাশি কোনো জনপ্রতিনিধি অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ব্যবস্থায় কীভাবে সেবা পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শামীম, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা সম্ভব হবে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়া জরুরি।



