
যে মেয়ের জন্য মিডিয়া ছেড়েছিলো, সে মেয়েই তাকে ছেড়ে চলে গেছে।
সেই গল্পই শোনালেন DOP ও পরিচালক আরিয়ান আহমেদ সাদিকুল।
তার ভাষ্যমতেঃ
মিডিয়া ছিল আমার আবেগ, ছিল আমার স্বপ্ন, আর সবচেয়ে বেশি—আমার ভালোবাসা।
এই মিডিয়ার জন্য আমি সব কিছু ত্যাগ করতে রাজি ছিলাম — এমনকি নিজের পরিবারকেও।
আমাকে মিডিয়ার পথে নিয়ে এসেছিলেন আমার আপন বড় ভাই রুবেল হোসেন, একজন মেধাবী মেকআপ আর্টিস্ট।
আর যিনি আমার হাত ধরে স্বপ্নের পথে হাঁটতে শিখিয়েছিলেন, তিনি আমার ভাই, আমার গুরু —
সেজাত খান, একজন দক্ষ ডিওপি, ডিরেক্টর ও এডিটর।

ছবিঃ সেজাত খানের সাথে সাদিকুল
সব কিছু ভালোই চলছিলো।
এক সময় আমার জীবনে এক মেয়ের আগমন ঘটে। আমরা সম্পর্কে জড়াই।
ঠিক তখনই দেশে আন্দোলন শুরু হয়, সব নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়।
একদিন মেয়েটি ফোনে জানায়, সে অসুস্থ, তাই এলাকায় যেতে হবে।
আমি উদ্বিগ্ন হয়ে বসের কাছে ছুটি চাই।
কিন্তু বস আমাকে আন্দোলনের কারণে যেতে বাধা দেন।
আমি কিছু না ভেবে বসের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে,
মিডিয়া ছেড়ে দিয়ে এলাকায় চলে যাই— শুধুমাত্র সেই মেয়ের জন্য।
কিন্তু এলাকায় পৌঁছানোর পর
যে মেয়ের জন্য সব ছেড়ে এসেছিলাম,
সে-ই আমাকে ছেড়ে চলে যায়।
তারপর আমি ভীষণ ডিপ্রেশনে পড়ে যাই।
কারণ, আমি শুধু একজন মানুষকেই হারাইনি — হারিয়েছিলাম আমার স্বপ্নকেও।
কিছুদিন পর নিজের জেদ আর ভালোবাসা থেকে
আমি এলাকায় বসেই ছোট ছোট নাটক বানানো শুরু করি।
সেই নাটকগুলো একদিন আমার আগের বসের চোখে পড়ে,
তিনি আমাকে ফোন করে আবারও মিডিয়ায় ফিরিয়ে নেন।
আলহামদুলিল্লাহ, এখন আমি আবার আমার স্বপ্নের পথে হাঁটছি।
এখনও অনেক পথ বাকি, কিন্তু আমি থামিনি।
আপনাদের কাছে দোয়া চাই,
যেন আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি।
আর একটা কথা—
আমার মতো করে কখনো কোনো মেয়ের ভালোবাসায় পড়ে বড় সিদ্ধান্ত নেবেন না।
জীবনটা আপনার নিজের,
তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত ভেবে-শুনে নিন।


