বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সুমনের ‘স্টান্টবাজি’: বিব্রত জনগণ
বিব্রত আড়াইহাজারের জনগণ ও তৃণমূল বিএনপি
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দাবি করে আলোচনায় এসেছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন। তবে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ—এটি নিছক “স্টান্টবাজি” ছাড়া আর কিছু নয়। এতে করে বিব্রত বোধ করছেন আড়াইহাজারের সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল বিএনপি নেতারা।
ভুয়া প্রচারণায় সরব সুমনের কর্মীরা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের সঙ্গে মনোনয়নের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সুমন তার বেতনভুক্ত কিছু কর্মচারীকে দিয়ে এলাকায় নানা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছেন।
তারা দাবি করছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নাকি আনুষ্ঠানিকভাবে সুমনকে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন। এমনকি এই দাবির “উদযাপন” করতে তারা বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় মিষ্টি বিতরণও করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, সুমন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও ফোনে জানান যে, তিনি দলের আনুষ্ঠানিক মনোনীত প্রার্থী। এতে প্রশাসনসহ সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনের মাঠে অনুপস্থিত ছিলেন সুমন
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, আন্দোলন-সংগ্রামের দিনগুলোতে রাজপথে কখনও দেখা যায়নি মাহমুদুর রহমান সুমনকে। বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা কিংবা আইনি সহায়তার ক্ষেত্রেও তার কোনো ভূমিকা ছিল না। ফলে তৃণমূল পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
সীমিত উপস্থিতির সমাবেশে হাস্যরস
নিজেকে আলোচনায় রাখতে গত ১ নভেম্বর আড়াইহাজারের শহীদ মঞ্জুর স্টেডিয়ামে এক সমাবেশের আয়োজন করেন তিনি। তবে উপস্থিতি ছিল একেবারেই সীমিত। বক্তৃতাকালে বিএনপির ‘৩১ দফা’ রাষ্ট্র সংস্কার রূপরেখাকে ভুলবশত “২৯ দফা” বলে উল্লেখ করায় উপস্থিতদের মধ্যে হাস্যরস ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
“মনোনয়নের নামে ফাঁকিবাজি করছে”
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন,
“মাহমুদুর রহমান সুমন আমাদের খসরু সাহেবের ছেলে। তার বাবা বিএনপির জন্য অনেক কিছু করেছেন, কিন্তু ছেলেটা রাজনীতি বোঝে না। সে বলল—‘আমি ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছি, তারেক রহমান ফোন দিয়েছেন।’ তারপর মিষ্টি খাওয়ালো। কিন্তু আজ সমাবেশে এসে দেখি, তার লোকই নেই।”
তিনি আরও বলেন,
“তারেক রহমান ৩১ দফা ঘোষণা দিয়েছেন, আর সুমন বলে ২৯ দফা! এতে বোঝা যায়, সে রাজনীতির কিছুই বোঝে না—শুধু মনোনয়নের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।”
বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ভুয়া প্রচারণা ও নাটকীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মাহমুদুর রহমান সুমন শুধু জনগণকেই নয়, দলের ভেতরেও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।


