সাজ্জাত হোসেন আতাউরের সাড়ে তিন দশকের রাজনৈতিক পথচলা, ২৯ মামলার তথ্য ও পাঁচবার কারাবরণেরহ অভিজ্ঞতা

ছাত্রদলের কর্মী থেকে জনপ্রতিনিধি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে সাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাজ্জাত হোসেন আতাউর
আড়াইহাজার প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় সাজ্জাত হোসেন আতাউর। ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর রাজনৈতিক পথচলায় রয়েছে জনপ্রতিনিধিত্ব, দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং মামলা-গ্রেপ্তারের অভিজ্ঞতা। বর্তমানে তিনি সাতগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন রাজনৈতিক পথচলায় সাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে জনসেবায় আরও বৃহত্তর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন তিনি।

ছাত্ররাজনীতি থেকে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
সাজ্জাত হোসেন আতাউর ১৯৮০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাঁচরুখী মাইজপাড়া গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে ছাত্রদল, যুবদল এবং বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় তাঁর রাজনৈতিক পথচলা।
১৯৯৬ সালে সাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তাঁর রাজনৈতিক জীবনী অনুযায়ী, বিভিন্ন মেয়াদে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্রায় ১৭ বছর স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাতগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব এবং আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন তিনি।

২৯টি মামলার তথ্য ও পাঁচবার গ্রেপ্তারের দাবি
সাজ্জাত হোসেন আতাউরের রাজনৈতিক জীবনের আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি হলো মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা। তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের দাবি, আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির মামলার রেকর্ড বইয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ২৯টি মামলার তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে পাঁচবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তাঁর সহকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মামলায় জামিন পেতে সহযোগিতা করেন আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মতিউর রহমান মতিন।
তবে এসব মামলার প্রকৃত সংখ্যা, মামলাগুলোর ধরন, বর্তমান আইনি অবস্থা এবং নিষ্পত্তির তথ্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক জীবনের এই অধ্যায় সম্পর্কে তাঁর সহকর্মীরা একে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিকূল অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন।

২০০১ সালের হামলায় আহত হওয়ার ঘটনা
আতাউরের রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ২০০১ সালের একটি হামলা। তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে তিনি আহত হন। হামলায় তাঁর নাকের হাড় ও পায়ের গোড়ালি ভেঙে গিয়েছিল বলে তাঁদের দাবি।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে, আহত অবস্থায় হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন তৎকালীন আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ। বর্তমানে তাঁরা যথাক্রমে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করতে সে সময়ের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

কারাগারে নজরুল ইসলাম আজাদের সঙ্গে সময় কাটানোর স্মৃতি
সাজ্জাত হোসেন আতাউরের রাজনৈতিক জীবনে বিএনপি নেতা ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের সঙ্গে কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতাও একটি আলোচিত বিষয়।
আতাউরের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, কারাগারে অবস্থানকালে তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাতগ্রাম ইউনিয়নের নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সময় সুযোগ সৃষ্টি হলে তাঁকে সাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নের বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস নজরুল ইসলাম আজাদ দিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
আতাউরের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় সেখানে সাতগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রিপন মেম্বার এবং দুপ্তারা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইমরান মিয়াও উপস্থিত ছিলেন।
আতাউরের কাছে ঘটনাটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থার স্মৃতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে দেওয়া আশ্বাস এবং আনুষ্ঠানিক দলীয় মনোনয়ন এক বিষয় নয়। এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

আন্দোলন-সংগ্রামে সাতগ্রাম ইউনিয়নকেন্দ্রিক ভূমিকা
বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলীয় কর্মসূচিতে সাজ্জাত হোসেন আতাউরের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীরা তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, নির্বাচনকেন্দ্রিক আন্দোলন, হরতাল-অবরোধ, মশাল মিছিল, পদযাত্রা এবং বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে সাতগ্রাম ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন।
সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচরুখী এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে নজরুল ইসলাম আজাদের পরিকল্পনায় দুটি পৃথক দল কাজ করত। এর মধ্যে একটি দল পাঁচরুখী বাজারকেন্দ্রিক ছিল এবং অন্য দলটি আতাউরের নিজ বাসভবনকে কেন্দ্র করে সাতগ্রাম ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করত।
স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসূচির সমন্বয়, নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রে আতাউর ভূমিকা পালন করেছেন বলে তাঁর সহকর্মীদের দাবি।

সামাজিক কর্মকাণ্ড ও জনসম্পৃক্ততা
দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও সাজ্জাত হোসেন আতাউরের সম্পৃক্ততার কথা তাঁর অনুসারীরা উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, স্থানীয় সমস্যা নিয়ে কাজ করা, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষা ও ক্রীড়ামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা তাঁর জনসম্পৃক্ততার অংশ।
দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে সাতগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ গড়ে উঠেছে বলে মনে করেন তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীরা।

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে উন্নয়নের প্রত্যাশা
বর্তমানে সাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে পরিচিত সাজ্জাত হোসেন আতাউর স্থানীয় উন্নয়ন ও জনসেবাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের পদ ক্ষমতার আসন নয়; বরং জনগণের আমানত। সাধারণ মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদকে জনসেবার কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই তাঁর লক্ষ্য।
তিনি স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার, তরুণদের খেলাধুলা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ যাতে সহজে নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন, নাগরিক সেবা পেতে পারেন এবং স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে মতামত দিতে পারেন, সে ধরনের পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে নতুন দায়িত্বের প্রত্যাশা
ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু হওয়া সাজ্জাত হোসেন আতাউরের রাজনৈতিক পথচলায় যুক্ত হয়েছে জনপ্রতিনিধিত্ব, সাংগঠনিক নেতৃত্ব, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার অভিজ্ঞতা। তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলা, গ্রেপ্তার ও শারীরিক আঘাতের অভিজ্ঞতাও তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অংশ।
এখন সাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছেন তিনি।

তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনা, মামলা-সংক্রান্ত তথ্য এবং অতীতের হামলার বিবরণ যথাযথভাবে মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক দলিল গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সাতগ্রাম ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় ভূমিকা রাখাই সাজ্জাত হোসেন আতাউরের ঘোষিত লক্ষ্য। চেয়ারম্যান পদে তাঁর ভবিষ্যৎ পথচলা নির্ভর করবে দলীয় সিদ্ধান্ত, জনগণের মতামত এবং তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ওপর।


